সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত যমুনার তীর ঘেঁষে নির্মিত ২৯ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধের ওপরের কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিনেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার পাশাপাশি পাবনার বেড়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জমে যায় হাঁটুপানি ও কাদা। সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বিপাকে পড়ছে রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে স্থবিরতার মুখে পড়েছে এনায়েতপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের হাট।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, যমুনার ভাঙন থেকে জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রায় ছয় বছর আগে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ কাজে ব্যয় হয় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। তবে বাঁধ নির্মাণ শেষ হলেও এর ওপর দিয়ে চলাচলের সড়কটি এখনো পাকাকরণ করা হয়নি।
ফলে সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী, খোকশাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বর্ষা কিংবা সামান্য বৃষ্টিতে কাদাপানিতে সড়ক একাকার হয়ে যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলও হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক জায়গায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করেন শত শত শিক্ষার্থী। কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান। অনেকের জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হচ্ছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে না পারায় হাসপাতালে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।
এনায়েতপুর দেশের অন্যতম বড় তাঁতপণ্য বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানকার শাড়ি, লুঙ্গি, গামছাসহ বিভিন্ন তাঁতপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থায় পাইকার ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এনায়েতপুরের হাটে আসতে সমস্যায় পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকার ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েছে। একই সঙ্গে তাঁতপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। এতে হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সড়কটিকে আধুনিক আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সয়দাবাদ–এনায়েতপুর হয়ে পাবনা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসানে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ততদিন পর্যন্ত বাঁধের ওপরের সড়কটি চলাচল উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। এতে যমুনাপাড়ের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি এনায়েতপুরের তাঁতশিল্প ও বাণিজ্যও নতুন গতি পাবে।