Logo
প্রিন্টের তারিখ: 22 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 22, 2026

সংবাদ শিরোনাম : দোয়ারাবাজারে ফেসবুকে' অস্ত্রের ছবি-ভিডিও প্রকাশ:যুবক আট'ক, তদন্তে পুলিশ ও বিজিবি।

দোয়ারাবাজারে ফেসবুকে' অস্ত্রের ছবি-ভিডিও প্রকাশ:যুবক আট'ক, তদন্তে পুলিশ ও বিজিবি।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র হাতে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে হেলাল আহমদ (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। 
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই রাতে পৃথক দুটি অভিযানে মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে দোয়ারাবাজার থানার এফআইআর নং-৪, জিআর নং-৭৮/২০২৬ (তারিখ: ২ এপ্রিল ২০২৬)-এর এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি হোসেনুর রহমান ওরফে হোসেন মিয়া (২৮) এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং-৮৫ (তারিখ: ৩ জুলাই ২০২৬)-এর ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫ ধারায় হেলাল আহমদকে আটক করা হয়। পরে দুজনকেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হেলাল আহমদ ও তার ভাই সুজন মিয়া নিজেদের ফেসবুক স্টোরিতে অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে অস্ত্র হাতে তোলা আরও কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার চার যুবককে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করলে বিজিবির সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়ন দোয়ারাবাজার থানা পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেলাল আহমদকে আটক করে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির জানান, ভিডিওতে দেখা যাওয়া যুবকেরা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের খাসিয়াদের সুপারি বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার দাবি, শখের বশে খাসিয়াদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিজিবির সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি নজরে আসার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ভিডিও ধারণের স্থান ভারতের অভ্যন্তরে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ভারতীয় খাসিয়াদের। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হেলাল আহমদকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার ভাই সুজন মিয়াই প্রথম এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভিডিওতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততাও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশজনতা
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ Ummah Host BD
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF